
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৯০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি। বিজিবির দাবি, অভিযানের সময় কয়েকজন সন্দেহভাজন চোরাকারবারি ব্যাগ ফেলে জঙ্গলের দিকে পালিয়ে যান।
বুধবার রাত নয়টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)–এর আশারতলী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকার জারুলিয়াছড়িতে এ অভিযান চালানো হয়।
বিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্ত পিলার ৪৬ থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জারুলিয়াছড়ি এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হয়। এ সময় বিজিবির আভিযানিক দল কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দেখতে পেয়ে তাঁদের ধাওয়া করে। একপর্যায়ে তাঁরা একটি ব্যাগ ফেলে পাশের জঙ্গলে পালিয়ে যান।
পরে ওই ব্যাগ তল্লাশি করে নয়টি কার্টনে বিশেষ কৌশলে রাখা ৮৯ হাজার ৯১৬টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে হলুদ রঙের ইয়াবা ছিল ৮৯ হাজার ১৬টি এবং সবুজ রঙের ৯০০টি।
বিজিবির হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক সিজার মূল্য ২ কোটি ৬৯ লাখ ৭৪ হাজার ৮০০ টাকা।
নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের (১১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, মানব পাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে সীমান্তে নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধার করা ইয়াবা আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। একই সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া চোরাকারবারিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এই ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনাকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখছে বিজিবি। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার ঠেকাতে অভিযান ও নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।