
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে রাজধানীর বনানী থানায় করা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রয়েছে। তাঁর জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত ‘নো অর্ডার’ দিয়েছেন। তবে আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি দেশত্যাগ করতে পারবেন না।
আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন।
বনানী থানার মামলায় অধস্তন আদালতে জামিন না পেয়ে গত ৯ আগস্ট হাইকোর্টে আবেদন করেন খায়রুল হক। পরদিন তাঁর আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। এই জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। আজ সেই আবেদনের ওপর শুনানি শেষে চেম্বার আদালত ‘নো অর্ডার’ দেন।
আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান ছিদ্দিকী ও মো. মোখলেছুর রহমান।
খায়রুল হকের আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন বলেন, বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে মোট নয়টি মামলা রয়েছে এবং সব কটি মামলাতেই তিনি জামিন পেয়েছেন। বনানী থানার মামলায় জামিন বহাল থাকায় তাঁর কারামুক্তিতে আপাতত আইনগত কোনো বাধা নেই বলে জানান তিনি।
খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেন।
গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর বিভিন্ন মামলায় তিনি কারাগারে ছিলেন।
পৃথক আটটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর বনানী থানার মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। গত ৮ জুলাই ওই মামলায় খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এটি তাঁর বিরুদ্ধে করা নবম মামলা।
এর আগে পৃথক মামলায় জামিন পাওয়ার পর নতুন মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে তাঁর ছেলে আইনজীবী আশিক উল হক হাইকোর্টে রিট করেন। ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ১৭ মে হাইকোর্ট সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া খায়রুল হককে গ্রেপ্তার না দেখানো ও হয়রানি না করার নির্দেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষ ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে। গত ৯ আগস্ট আপিল বিভাগ বিষয়টি নিষ্পত্তি করে হাইকোর্টে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এর ফলে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া খায়রুল হককে গ্রেপ্তার না দেখানো ও হয়রানি না করার হাইকোর্টের নির্দেশ তাঁর ক্ষেত্রে বহাল রয়েছে।
এর মধ্যে বনানী থানার মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিনও আজ বহাল থাকল। তবে আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশত্যাগ করতে পারবেন না খায়রুল হক।