
কক্সবাজার সরকারি কলেজের ছাত্রীনিবাস থেকে ২০ হাজার ইয়াবাসহ শরীফা নামের এক কলেজছাত্রীকে আটক করেছে পুলিশ। গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে কক্সবাজার সদর মডেল থানার একটি দল ছাত্রীনিবাসে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করে। পুলিশ বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শরীফা ইয়াবার চালানটি তাঁর খালার বলে জানিয়েছেন। তবে ইয়াবার প্রকৃত মালিক কে এবং চালানটি কীভাবে কলেজের ছাত্রীনিবাসে পৌঁছেছে, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।শরীফা কক্সবাজার সরকারি কলেজে অনার্সে পড়ছেন। তাঁর বাড়ি টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভীবাজার আলী আকবরপাড়া এলাকায়। তিনি ওই এলাকার মাওলানা লিয়াকত আলী ও মরিয়ম আক্তার দম্পতির বড় মেয়ে। তাঁর বাবা স্থানীয় একটি দাখিল মাদ্রাসার সুপার।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শরীফার খালা বেলী আক্তারের স্বামী এরশাদুর রহমানের সঙ্গে তাঁর পরিবারের আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। বেলী আক্তার শরীফার মায়ের আপন বোন। ফলে এরশাদুর রহমান ও শরীফার বাবা লিয়াকত আলী ভায়রা ভাই।
এরশাদুর রহমান ও বেলী আক্তার দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত—এমন অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে এ প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে শরীফা জানিয়েছেন, তাঁর খালা বেলী আক্তারই ইয়াবার চালানটি তাঁর কাছে রেখে গেছেন। তবে এই বক্তব্যের সত্যতা এবং ইয়াবা সরবরাহের সঙ্গে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, ইয়াবাসহ কলেজের ছাত্রীনিবাস থেকে শরীফাকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কিছু তথ্য দিয়েছেন। তাঁকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ইয়াবার প্রকৃত মালিককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
এদিকে কলেজের ছাত্রীনিবাস থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ একজন শিক্ষার্থী আটকের ঘটনায় শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, শুধু বহনকারীকে নয়, এর পেছনে থাকা ব্যক্তিদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক।
আটক শরীফার খালু এরশাদুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো বক্তব্য দেননি। শরীফার বাবা মাওলানা লিয়াকত আলী বেলী আক্তার তাঁর আপন শ্যালিকা বলে নিশ্চিত করেন। বেলী আক্তার ইয়াবার চালানটি মেয়ের কাছে রেখেছিলেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে বলতে পারবে’, এরপর ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।