
উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, টেকনাফে এবার ১ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে সুপারির বাগান রয়েছে। চলতি মৌসুমে এসব বাগান থেকে ১১ হাজার ২৪০ মেট্রিক টন সুপারি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত মৌসুমে একই পরিমাণ জমি থেকে উৎপাদন হয়েছিল ১০ হাজার ২৪০ মেট্রিক টন।
টেকনাফে বাণিজ্যিকভাবে সবচেয়ে বেশি সুপারি চাষ হয় সাবরাং ইউনিয়নে। সেখানে ৩৭০ হেক্টর জমিতে সুপারির বাগান রয়েছে। এ ছাড়া বাহারছড়া ইউনিয়নে ৩৬০, টেকনাফ সদর ইউনিয়নে ৩৫০, হ্নীলা ইউনিয়নে ৪০, হোয়াইক্যং ইউনিয়নে ৫০ এবং সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ইউনিয়নে ১০ হেক্টর জমিতে সুপারি চাষ হচ্ছে।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, এ বছর বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় সময়মতো সুপারি সংগ্রহ করতে পারছেন কৃষকেরা। অনুকূল আবহাওয়ার পাশাপাশি সার ব্যবস্থাপনা ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ায় ফলন বাড়াতে সহায়তা হয়েছে।
টেকনাফের সুপারি স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। ব্যবসায়ীদের দাবি, উৎপাদিত সুপারির একটি অংশ বিদেশেও যাচ্ছে। ফলে স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে সুপারি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সুপারি চাষিদের আরেকটি আয়ের উৎস ‘ভিজা সুপারি’। মৌসুমে সংগ্রহ করা সুপারি বিশেষ পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করে বর্ষা বা অফ-সিজনে বেশি দামে বিক্রি করেন অনেক কৃষক ও ব্যবসায়ী। স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, এভাবে সুপারি সংরক্ষণ করে কেউ কেউ বাড়তি আয় করছেন।
কৃষকেরা জানান, সাধারণত মে-জুনে সুপারি গাছে মুকুল আসে এবং সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ফল পরিপক্ব হয়। পরিপক্ব হওয়ার পর গাছ থেকে সুপারি সংগ্রহ করে কেউ সরাসরি বাজারে বিক্রি করেন, আবার কেউ পরবর্তী সময়ে বিক্রির জন্য সংরক্ষণ করেন।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শফিউল আলম বলেন, টেকনাফে ১ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে সুপারি চাষ হয়েছে। গত মৌসুমে এসব বাগান থেকে ১০ হাজার ২৪০ মেট্রিক টন সুপারি উৎপাদিত হয়েছিল। এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১১ হাজার ২৪০ মেট্রিক টন হলেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি উৎপাদন হতে পারে বলে তাঁরা আশা করছেন।
টেকনাফ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরামর্শ ও কৃষকদের প্রশিক্ষণের কারণে এবার সুপারির ফলন ভালো হয়েছে। সার ব্যবস্থাপনা ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে মাঠে গিয়ে কৃষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের কারিগরি সহায়তার পাশাপাশি তাঁরা যাতে উৎপাদিত সুপারি ন্যায্য দামে বিক্রি করতে পারেন, সে বিষয়েও কৃষি বিভাগ কাজ করবে।
কৃষি বিভাগের প্রত্যাশা, অনুকূল পরিবেশ ও সঠিক ব্যবস্থাপনা অব্যাহত থাকলে আগামী মৌসুমেও টেকনাফে সুপারির উৎপাদন বাড়বে। এতে স্থানীয় কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি সুপারি ঘিরে গড়ে ওঠা ব্যবসা আরও সম্প্রসারিত হতে পারে।