
পেকুয়ার মগনামা জেটিঘাট দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার হাজারো মানুষ। দীর্ঘদিনের ব্যবহারে জেটিঘাটের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়েও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। এ অবস্থায় পুরোনো জেটিঘাট সংস্কারের পাশাপাশি প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি নতুন আধুনিক জেটিঘাট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন জেটিঘাট নির্মাণ ও পুরোনো জেটিঘাট সংস্কারে পৃথক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। নতুন জেটিঘাটটি মগনামা বিট কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বেড়িবাঁধের অংশে নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। আর পুরোনো জেটিঘাট সংস্কারে আনুমানিক ৬ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। সংস্কারকাজটি জেলা পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, নতুন জেটিঘাট নির্মাণের লক্ষ্য হলো নিরাপদ যাত্রী চলাচল, উন্নত যাত্রীসেবা এবং পেকুয়া-কুতুবদিয়াসহ উপকূলীয় এলাকার নৌ যোগাযোগব্যবস্থা শক্তিশালী করা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, মগনামা জেটিঘাট তাঁদের কাছে শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, জীবন-জীবিকারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রোগী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীসহ প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এই ঘাট ব্যবহার করেন। ঘাটের অবস্থা খারাপ হওয়ায় অনেক সময় ঝুঁকি নিয়েই নৌযানে উঠতে হয়।
জানা গেছে, ২০০৫ সালে কুতুবদিয়া, মহেশখালী ও কক্সবাজারের সঙ্গে নৌ যোগাযোগ সহজ করতে উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে মগনামা জেটিঘাট নির্মাণ করা হয়েছিল। পরে ঘাটটি জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তবে দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় ২০১৮ সাল থেকে ঘাটটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। বিশেষ করে রেলিংসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর কিছু অংশ ভেঙে যাওয়ায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে।
মগনামা লঞ্চঘাটের ইজারাদার ও মগনামা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম বলেন, মগনামা লঞ্চঘাট পেকুয়া-কুতুবদিয়ার মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের ঝুঁকি ও দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। পুরোনো ঘাট সংস্কারের পাশাপাশি নতুন জেটিঘাট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
পেকুয়া এলজিইডি কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, নতুন জেটিঘাট নির্মাণের মাধ্যমে নৌযাত্রীদের নিরাপত্তা ও সেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকার নৌ যোগাযোগব্যবস্থা আরও কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, নতুন জেটিঘাট নির্মাণ ও পুরোনোটি সংস্কার হলে পেকুয়া-কুতুবদিয়ার মানুষের দীর্ঘদিনের নৌযাত্রার দুর্ভোগ কমতে পারে। পাশাপাশি নিরাপদ নৌ যোগাযোগের ফলে দুই এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার প্রত্যাশা করছেন তাঁরা।