
দেশে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, কোনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ বা অস্ত্রধারীকে ছাড় দেওয়া হবে না; সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতকে শৃঙ্খলার মধ্যে এনে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সৈকতের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও জোরদার করা হবে।
তিনি বলেন, কক্সবাজার দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন গন্তব্য। তাই পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাদক সমস্যার প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে উখিয়া–টেকনাফ অঞ্চলের মাদক রুট বন্ধ করা জরুরি। তিনি বলেন, মাদক পাচার ও বাণিজ্য বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও জানান, অনলাইন জুয়া বন্ধের বিষয়েও সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
কক্সবাজার শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের বিষয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, শহরে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে অতিরিক্ত জনবল দেওয়া হবে। পাশাপাশি অটোরিকশা বা টমটমের সংখ্যা আর বাড়ানো হবে না। নির্ধারিত সীমার বাইরে নতুন কোনো যানবাহনের অনুমতি দেওয়া হবে না এবং মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহনের লাইসেন্স নবায়ন করা হবে না।
সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনের বিষয়ে তিনি বলেন, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর পাহাড় এলাকায় বর্তমানে বড় ধরনের যৌথ অভিযান চলছে। কোনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী কিংবা সংঘবদ্ধ অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, দেশে ‘মব কালচার’ বা দলবদ্ধ সহিংসতার প্রবণতাও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা টেকনাফ স্থলবন্দর চালুর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
আলোচিত হাদি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, এ ঘটনায় ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ইতিমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় তাদের ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করা হবে।
সভায় জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান, পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল এবং কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীসহ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ দমন, মাদক প্রতিরোধ এবং জননিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।