. .
স্বপ্ন ছিল সারা দেশে প্রথম হওয়ার। সেই স্বপ্ন পূরণ না হলেও এসএসসি পরীক্ষায় ১ হাজার ২৪১ নম্বর পেয়ে পেকুয়া উপজেলায় সবার সেরা হয়েছেন মাহাথির মোহাম্মদ আরশী। তাঁর এই সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে বইছে আনন্দ।
মাহাথির পেকুয়া পৌরসভার সিরাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেকুয়া সরকারি মডেল জিএমসি ইনস্টিটিউশনের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি গ্লোরিয়াস কোচিং সেন্টারে প্রস্তুতি নিয়েছেন। তবে কোনো ব্যক্তিগত শিক্ষক তাঁর ছিল না।
আরশী জানান, স্কুল ও কোচিংয়ের পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত বাড়িতে পড়াশোনা করতেন। বাবা-মা ও শিক্ষকদের সহযোগিতা এবং দিকনির্দেশনাই তাঁকে এই সাফল্য এনে দিয়েছে।
তবে উপজেলায় প্রথম হওয়ার আনন্দের মধ্যেও তাঁর মনে কিছুটা আক্ষেপ আছে। আরশী বলেন, ‘আমার স্বপ্ন ছিল সারাদেশে প্রথম হওয়া। যদিও সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি, তবে মহান আল্লাহ যা করেন, তা কল্যাণের জন্যই করেন। ভবিষ্যতে আরও ভালো ফল করার চেষ্টা করব।’

মাহাথিরের বাবা মোহাম্মদ কায়কোবাদ চৌধুরী কোনাখালী করিমিয়া স্কুলের শিক্ষক। মা শুকতারা খানম গৃহিণী। তিন সন্তানের মধ্যে মাহাথির সবার ছোট। তাঁর বড় দুই ভাইও পেকুয়া সরকারি মডেল জিএমসি ইনস্টিটিউশন থেকে এসএসসিতে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাঁদের একজন বিজিজি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্সে পড়ছেন এবং অন্যজন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে একই বিষয়ে অধ্যয়নরত।
ভাইদের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার মাহাথিরও পেকুয়ার সেরা ফল করে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য গৌরব বয়ে এনেছেন।
নিজের সাফল্যের জন্য জিএমসি ইনস্টিটিউশন ও গ্লোরিয়াস কোচিং সেন্টারের শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মাহাথির। বিশেষভাবে স্মরণ করেছেন বাবা-মায়ের অবদানের কথা।
তিনি বলেন, ‘বাবা বেশির ভাগ সময় কর্মস্থলে থাকলেও মা সব সময় আমার পাশে ছিলেন। আমার প্রয়োজনের বিষয়গুলো মা-বাবা সব সময় খেয়াল রেখেছেন।’
বাবা কায়কোবাদ চৌধুরী বলেন, ‘আমি বেশির ভাগ সময় স্কুলে থাকি। তবে তার মা সব সময় তাকে গাইড করেছে। বাড়িতে আলাদা শিক্ষক রাখার বিষয়ে সে আগ্রহী ছিল না। নিজের চেষ্টায় পড়াশোনা করে এমন ফলাফল করায় আমি গর্বিত।’
মাহাথিরের এই সাফল্য পেকুয়ার শিক্ষাঙ্গনে নতুন অনুপ্রেরণা তৈরি করেছে। তাঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন শিক্ষক, সহপাঠী ও এলাকাবাসী।
মন্তব্য করুন