. .
কক্সবাজারকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে পর্যটন, নীল অর্থনীতি ও সমুদ্রসম্পদকে ঘিরে কক্সবাজারের সমন্বিত উন্নয়নে একটি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২০২৬ সালের মধ্যে এই মাস্টারপ্ল্যান চূড়ান্ত করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে কক্সবাজারের সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কক্সবাজারে নীল অর্থনীতি ও সমুদ্রসম্পদ অনুসন্ধানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। কক্সবাজারকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার বিষয়েও পরিকল্পনা নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘ডিপ সি পোর্ট ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে কক্সবাজারে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে। এর ফলে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।’
সভায় কক্সবাজারের জন্য একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৬ সালের মধ্যে মাস্টারপ্ল্যানটি গ্রহণ ও চূড়ান্ত করতে হবে। এ বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি।’
কক্সবাজারের দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত ও মেরিন ড্রাইভ ঘিরে পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন এলাকায় ঘোষিত পরিবেশগত সংকটাপন্ন (ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল) এলাকার ভিত্তি ও সীমারেখা পুনর্বিবেচনার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রায় ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রসৈকতকে কীভাবে জাতীয় অগ্রগতি ও রাজস্ব আয়ের কাজে ব্যবহার করা যায় এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যায়, সে বিষয়ে সামগ্রিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যে কক্সবাজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবৃদ্ধির কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে। কক্সবাজারের অর্থনীতি ও সার্বিক উন্নয়ন দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের অবদান রাখবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সভায় কক্সবাজারের সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি পর্যটন, পরিবেশ, গণপূর্ত ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন