. .
সায়মুন ডেস্ক
প্রকাশ : Jul 31, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

কর্ণফুলীতে এস আলম গ্রুপের ১১ কারখানা বন্ধ, ছাঁটাই হাজারো শ্রমিক

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের ১১টি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব কারখানায় কর্মরত হাজার হাজার শ্রমিককে চাকরি থেকে অব্যাহতি বা ছাঁটাই করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

কারখানা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, ব্যাংকিং খাতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়া, তারল্য সংকট এবং নতুন করে ঋণপত্র (এলসি) খুলতে না পারায় কাঁচামাল আমদানি ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন সীমিত থাকার পর কারখানাগুলো বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস, ইনফিনিটি সিআর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ, এস আলম স্টিল, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস (নফ), চেমন ইস্পাত, গ্যালকো স্টিল, এস আলম ব্যাগ লিমিটেড, এস আলম সিমেন্ট ও এস আলম ভেজিটেবল অয়েলসহ মোট ১১টি কারখানা।

শ্রমিক ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে এসব কারখানায় প্রায় ৪ হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় আড়াই হাজার স্থায়ী এবং দেড় হাজার অস্থায়ী শ্রমিক ছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে ব্যাংকিং সংকট, মূলধনের ঘাটতি ও কাঁচামাল সংকটের কারণে উৎপাদন কমতে থাকে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে এর আগে কয়েক দফায় ৩০০, ৪০০ ও ৫০০ জন করে শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার কারখানার নোটিশ বোর্ডে চাকরি থেকে অব্যাহতির তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, তালিকাভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি থেকে অব্যাহতি ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে। এরপর শুক্রবার থেকে কারখানাগুলোর কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের শ্রমিকেরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে নোটিশ বোর্ডে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আকস্মিক ছাঁটাইয়ের খবরে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়।

কারখানাটির ডিজিএম রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কারখানায় সব ধরনের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। তাই কর্তৃপক্ষ চাচ্ছে কর্মরতরা যেন নিজ দায়িত্বে ফিরে যান।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মানবসম্পদ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, দেশের প্রায় সব কটি কারখানার শ্রমিকদের নোটিশ দিয়ে ছাঁটাই করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, প্রায় দুই বছর ধরে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও কারখানাগুলোর কার্যক্রম চালু রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। কাঁচামাল সংকট ও এলসি সুবিধা না থাকার পরও এতদিন শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়মিত পরিশোধ করা হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে গ্রুপটির পর্যাপ্ত তারল্য বা আর্থিক সক্ষমতা নেই। ফলে এত বড় পরিসরের শিল্পকারখানার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এস আলম গ্রুপের কারখানাগুলো বন্ধের ফলে বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের কর্মসংস্থান অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কারখানাগুলোর ভবিষ্যৎ কার্যক্রম এবং শ্রমিকদের পাওনা ও অন্যান্য বিষয় এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পদত্যাগ করেছেন আইজিপি

1

২ মামলায় জামিন পেলেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস

2

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদারে সচেষ্ট বাংল

3

মেয়াদ শেষ করতে পারেননি ১০ রাষ্ট্রপতি

4

নবউদ্যমে কক্সবাজার বন্ধুসভার সাংগঠনিক সভা ও পাঠচক্র অনুষ্ঠিত

5

৩৯ বছর পর আসছে ২০০ কিমি গতির শক্তিশালী টাইফুন

6

চকরিয়ায় গরুর মাংসে ওজন ও মূল্য কারচুপি, ১০ হাজার টাকা জরিমান

7

পেকুয়ায় পুকুরে ডুবে দুই বছরের শিশুর মৃত্যু

8

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিদ্যুৎ-সার উৎপাদনের প্রকল্প পরিদর্

9

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে কলেজ ছাত্রের আত্মহত্যা

10

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

11

ভোটের কালি নখ থেকে মোছার আগেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুর

12

দুর্নীতি মামলায় টেকনাফের জাফর আহমদের ৭ বছরের কারাদণ্ড

13

কক্সবাজারে ৭ বছরের শিশু ধর্ষণ মামলায় আবুল কালামের যাবজ্জীবন

14

রোহিঙ্গাদের ফুটবল ম্যাচ উপভোগ করলেন নিরাপত্তা উপদেষ্টা

15

সুগন্ধা সৈকতে মাথা ও পা-বিহীন অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

16

আদালত থেকে ফেরার পথে দুই বোনের মৃত্যু, ঘরে ফেরা হলো না

17

শকুন ও সভ্যতা - জি এম ইশরাফ উদ্দিন

18

ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার কিনলেন প্রধানমন্ত

19

সৌদি আরবে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হা

20