. .
সায়মুন ডেস্ক
প্রকাশ : Jan 3, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

প্রার্থীতা ফিরে পাচ্ছেন হামিদুর রহমান আযাদ!

মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বাতিল করা হয়েছে কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়ন পত্র।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান মনোনয়ন বাতিল ঘোষণার পরই রাতে জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন দলটির এই কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী আমলের সাজানো ও মিথ্যা মামলার অজুহাতে মনোনয়নপত্র বাতিল করা অন্যায় সিদ্ধান্ত। আমার হলফনামায় ঋণখেলাপি, ট্যাক্স ফাঁকি বা রাষ্ট্রীয় কোনো আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নেই। তারপরও ২০১৩ সালের আদালত অবমাননার একটি মামলাকে সামনে এনে মনোনয়ন বাতিল করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বৈষম্যমূলক।’

আযাদ আইনি ব্যাখা তুলে ধরে বলেন , ‘যে মামলাটি দেখিয়ে প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে, তা ফৌজদারি অপরাধ নয়। এটি ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে একটি বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে করা আদালত অবমাননার মামলা, যা কোনো ক্রিমিনাল কেসের সংজ্ঞায় পড়ে না।’

জামায়াতের কেন্দ্রীয় এই নেতার দাবী, ‘ ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনেও এই একই ইস্যু উত্থাপন করা হয়েছিল। তখন আইনি পর্যালোচনা শেষে রিটার্নিং অফিসার এটিকে নির্বাচনী অযোগ্যতা হিসেবে গ্রহণ করেননি। এমনকি ওই মামলায় সাজা ঘোষণার পরও তিনি দেড় বছর সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।’

আযাদের আইনজীবী মোহাম্মদ আরিফ জানিয়েছেন , ‘তিনি উল্লেখিত মামলায় তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগ করেছেন এবং বর্তমানে উচ্চ আদালতে মামলাটি আপিলাধীন। এটি আদালত অবমাননার মামলা, কোনো সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি অপরাধ নয়। আমাদের বক্তব্য না শুনেই একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে যার জন্য আমরা আপিলে যাচ্ছি।’

নির্বাচন কমিশনের সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী, এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ৫ থেকে ১১ জানুয়ারির মধ্যে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO), ১৯৭২-এর ধারা ১২(১)(গ) অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি ন্যূনতম দুই বছর বা তার বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, তবে কারামুক্তির পর পাঁচ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।

আইন ও আযাদের আইনজীবীর তথ্য মোতাবেক তিনি ইতিমধ্যেই সাজাভোগ করেছেন এবং তার ভোগ করা সাজা দুই বছরেরও কম।

২০১৮ সালের ২৫ জুলাই দণ্ডাদেশ কার্যকরের জন্য সাবেক এই সংসদ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয় এবং সাজাভোগ শেষে তিনি জামিনে মুক্তি পান বলে জানা গেছে।

যেহেতু, উচ্চ আদালতে মামলাটি আপিলাধীন আছে সেক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অনুসরণের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের আপিলে লিপিবদ্ধ করলে মহেশখালী ও কুতুবদিয়া থেকে ২০০৮ সালে নির্বাচিত সাবেক এই সংসদ সদস্যের ত্রয়োদশ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে প্রার্থীতা ফিরে পাওয়ার পর্যাপ্ত সম্ভাবনা আছে।

তবে বিষয়টি নির্ভর করছে নির্বাচন কমিশনের উপর এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে অপেক্ষা করতে হবে ১২ তারিখ আপিল নিষ্পত্তি হওয়া পর্যন্ত।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মহেশখালীতে মা ও শিশুপুত্রের মৃত্যু, আত্মহত্যা না হত্যা!

1

নৌবাহিনীর যৌথ অভিযান: হ্নীলায় অটোরিক্সা থেকে ৮০ হাজার ইয়াবা

2

পদত্যাগ করেছেন আইজিপি

3

সমুদ্রে জনসমুদ্র, রুম নেই হোটেলে

4

চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিএনপি নিজেকে আধুনিকায়ন করেছে: তারেক র

5

৩ লাখ রোহিঙ্গা ফেরত নেওয়ার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি: পররাষ্ট্র

6

হাসিনার বক্তব্যকে আমরা সমর্থন করি না : ভারত

7

দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬.৭ ডিগ্রি

8

দ্রুত চুক্তির শর্তে ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত বাতিল করলেন ট্রাম

9

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদারে সচেষ্ট বাংল

10

রামুর ধেছুয়াপালংয়ে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে যুবক নিহত

11

কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে ফজলুর রহমান জয়ী

12

টেকনাফের চাঞ্চল্যকর অপহরণ মামলার প্রধান ২ আসামি গ্রেফতার

13

শহরে ভাড়া বাসা থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

14

রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী অলি আহমদের মনোনয়নপত্র বৈধ

15

প্রবীর মিত্রের শেষ দিনগুলো যেমন ছিল

16

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন সালাহউদ্দিন আহমদ

17

পেকুয়ায় পৃথক দুই অগ্নিকাণ্ডে সাত পরিবারের ঘর পুড়ে ছাই

18

গভীর রাতে সৌদি প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, গ্রিল কেটে ঢুকে লুট;

19

স্থানীয় সরকার নয়, জাতীয় নির্বাচন আগে চায় বিএনপিসহ বিভিন্ন দল

20