. .
টানা ভারী বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মহেশখালীর অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে স্বেচ্ছাসেবী প্ল্যাটফর্ম ‘আমরা মহেশখালীবাসী’। এক সপ্তাহব্যাপী ত্রাণ কার্যক্রমে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার প্রায় ৫০০ বন্যাকবলিত পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
আয়োজকেরা জানান, মহেশখালী পেশাজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড, ঢাকাস্থ মহেশখালী সমিতি, দেশ-বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী, শুভানুধ্যায়ী এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
ত্রাণ কার্যক্রমের আওতায় মহেশখালী পৌরসভা, বড় মহেশখালী, ধলঘাটা, মাতারবাড়ী, কুতুবজোম, কালারমারছড়া, শাপলাপুর ও হোয়ানক ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে চাল, ডাল, তেল, আলুসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। স্থানীয় টিম লিডার ও স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার নির্বাচন করে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে বলে জানান আয়োজকেরা।
ত্রাণ পাওয়া পরিবারের সদস্যরা বলেন, বন্যায় অনেকের বসতঘর, কৃষিজমি ও জীবিকার উৎস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে খাদ্য সহায়তা তাদের জন্য তাৎক্ষণিক স্বস্তি এনে দিয়েছে।
ত্রাণ কার্যক্রমের অন্যতম সমন্বয়ক রুহুল আমিন বলেন, দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার নৈতিক দায়িত্ব। মহেশখালীর মানুষের সহযোগিতা, দেশ-বিদেশে থাকা প্রবাসী এবং শুভানুধ্যায়ীদের সমর্থনে অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় ৫০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও যেকোনো মানবিক সংকটে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, এই উদ্যোগের সাফল্যের পেছনে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের নিরলস পরিশ্রম এবং প্রবাসীদের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ত্রাণ কার্যক্রমে মহেশখালী পেশাজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড, ঢাকাস্থ মহেশখালী সমিতি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, দেশ-বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী এবং ব্যক্তি পর্যায়ের দাতারা সহযোগিতা করেন। মাঠপর্যায়ে সমন্বয়ে ভূমিকা রাখেন আবুল হাসেম। এছাড়া সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে আরও ১০০ পরিবারের জন্য খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করেন। ঢাকাস্থ মহেশখালী সমিতির সভাপতি আলী আহমদের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন আয়োজকেরা।
এ কার্যক্রমে বিভিন্ন ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি ব্লাড প্রগতি ফাউন্ডেশনের সদস্যরাও ত্রাণ পরিবহন ও বিতরণে অংশ নেন।
মহেশখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি ফারুক ইকবাল বলেন, সীমিত পরিসরে শুরু হলেও মহেশখালীবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, প্রবাসীদের সহযোগিতা এবং স্বেচ্ছাসেবকদের প্রচেষ্টায় এটি একটি বড় মানবিক উদ্যোগে পরিণত হয়েছে।
কার্যক্রম শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে মনির বিন সুলতান বলেন, এই উদ্যোগ শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়, বরং মহেশখালীবাসীর ঐক্য, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক চেতনার প্রতিফলন। ভবিষ্যতেও যেকোনো দুর্যোগে মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
মন্তব্য করুন