কক্সবাজার প্রতিনিধি
টানা নয় দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় কক্সবাজার জেলার মৎস্য খাত বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার হাজারো পুকুর ও ঘের পানিতে তলিয়ে গিয়ে ভেসে গেছে মাছ, চিংড়ি, পোনা ও পোস্ট লার্ভা (পিএল)। জেলা মৎস্য বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকা।
জেলা মৎস্য বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যায় জেলার ৩ হাজার ৯১৮টি পুকুর ও ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত জলাশয়ের আয়তন ৫ হাজার ২৫৪ একর এবং ৭৬৮ জন মৎস্যচাষি সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যার পানিতে ১ হাজার ৯৭ মেট্রিক টন মাছ, ৩৮৫ মেট্রিক টন চিংড়ি, ৩ লাখ ৫৬ হাজার পোনা এবং ২২১ লাখ পিস পোস্ট লার্ভা ভেসে গেছে। এর মধ্যে মাছ উৎপাদনে ক্ষতির পরিমাণ ১৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা, চিংড়িতে ১২ কোটি ৬২ লাখ টাকা, পোনায় ৫ কোটি ১০ লাখ টাকা এবং পিএলে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে উখিয়া উপজেলায়। সেখানে ৭৩০টি পুকুর ও ঘের, ২ হাজার একর জলাশয় এবং প্রায় ১৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকার মৎস্যসম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার পানিতে ভেসে গেছে ৬৫২ মেট্রিক টন মাছ, ১৬২ মেট্রিক টন চিংড়ি, ৩১০ লাখ পোনা ও ২০ লাখ পিএল।
মহেশখালী উপজেলায় ক্ষতির পরিমাণ ৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। সেখানে ১০৫টি পুকুর ও ১ হাজার ৯৬৫ একর জলাশয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চকরিয়ায় ক্ষতি হয়েছে ৬ কোটি ৩ লাখ টাকা, মাতামুহুরীতে ৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, টেকনাফে ৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা এবং কক্সবাজার সদরে ৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে কম ক্ষতি হয়েছে রামু উপজেলায়, যেখানে ক্ষতির পরিমাণ ৪২ লাখ টাকা।
চকরিয়ার মৎস্যচাষি মনির উদ্দিন বলেন, “অধিকাংশ পুকুরের বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় মাছ পানির সঙ্গে বেরিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও পুকুর কাদায় ভরে গেছে। আবার পানির গুণগত মান নষ্ট হওয়ায় নতুন করে পোনা ছাড়াও সম্ভব হচ্ছে না।”
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের দ্রুত পুনর্বাসন, ভর্তুকি মূল্যে পোনা ও খাদ্য সরবরাহ, স্বল্পসুদে ঋণ এবং পুকুর ও ঘের পুনঃসংস্কারে সরকারি সহায়তা জরুরি। অন্যথায় এ ক্ষতির প্রভাব আগামী মৌসুমের মাছ উৎপাদনেও পড়বে।
কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বলেন, ক্ষয়ক্ষতির হিসাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।