. .
সায়মুন ডেস্ক
প্রকাশ : Aug 6, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি, নাইক্ষ্যংছড়িতে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

বান্দরবানের সীমান্তবর্তী নাইক্ষ্যংছড়িতে পাহাড়ধস, আকস্মিক বন্যা, ভারী বর্ষণসহ বিভিন্ন দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগের পর ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি দুর্যোগের আগেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে প্রস্তুতি নেওয়া এবং সরকারি-বেসরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন সভায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট ২০২৬) সকালে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদ হলরুমে বহুমুখী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও আগাম প্রস্তুতি বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলা হয়। সভায় সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তা, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।

‘বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে বহুমুখী দুর্যোগে আগাম প্রস্তুতি কার্যক্রম সম্প্রসারণ (সুরক্ষা)’ প্রকল্পের আওতায় সভাটির আয়োজন করে সেভ দ্য চিলড্রেন, রাইমস (আঞ্চলিক সমন্বিত বহুদুর্যোগ পূর্বাভাস ব্যবস্থা) ও আশিকা ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন। প্রকল্পটি অর্থায়ন করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

সভায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড়ধস, আকস্মিক বন্যা, ভারী বর্ষণ, ভূমিধস ও ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে। এসব দুর্যোগে জানমাল ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে তাই আগাম সতর্কবার্তা, কার্যকর পরিকল্পনা ও স্থানীয় পর্যায়ে সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।

দুর্যোগের পর শুধু ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে আগে থেকেই সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত আগাম সতর্কবার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া, জনসচেতনতা বাড়ানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে সময়মতো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।

স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিগুলোকে আরও কার্যকর করার পাশাপাশি নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কমিউনিটি পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবকদের সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়।

মতবিনিময় সভায় নাইক্ষ্যংছড়ির স্থানীয় বাস্তবতায় দুর্যোগ মোকাবিলার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়েও আলোচনা হয়। পাহাড়ি এলাকার ঝুঁকি, আশ্রয়কেন্দ্রের সক্ষমতা, উদ্ধার কার্যক্রম, জরুরি যোগাযোগব্যবস্থা এবং দুর্যোগের সময় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা উঠে আসে আলোচনায়।

অংশগ্রহণকারীরা বলেন, নাইক্ষ্যংছড়িসহ পার্বত্য অঞ্চলে দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তথ্য আদান-প্রদান, আগাম প্রস্তুতি, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, জনসচেতনতা এবং দ্রুত সাড়াদান ব্যবস্থা শক্তিশালী করা গেলে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

সভা শেষে দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো, আগাম প্রস্তুতি জোরদার এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে একটি দুর্যোগ-সহনশীল সমাজ গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দেশে কেউ সংখ্যালঘু নয়, সবাই বাংলাদেশি : প্রধানমন্ত্রী

1

শক্তিশালী রুশ টিইউ-৯৫ বোমারু বিমান ধ্বংস করল ইউক্রেন

2

মহেশখালীতে ধানক্ষেত লাশ, পরিবারের দাবি পরিকল্পিত হত্যা।

3

কলাতলীর গ্যাসপাম্পে আগুনে দগ্ধ আরেকজনের মৃত্যু, মৃত তিন

4

মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন আহমেদ আযম খান

5

মেরিন ড্রাইভের ভাঙ্গন পরিদর্শনে পানিসম্পদ মন্ত্রী এ্যানি

6

হোয়াইক্যংয়ের কম্বনিয়া পাহাড়ে যুবকের লাশ

7

উখিয়ায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পালংখালী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক গ

8

অগ্নিকাণ্ডে তিন বসতঘর পুড়ে ছাই, ক্ষতি ২০ লাখ টাকা

9

দুই দিন ধরে নিখোঁজ প্রবাল নিউজের প্রতিবেদক জুয়েল হাসান, থানা

10

চকরিয়ার ফুলের রাজ্যে ২ কোটি টাকার ফুল বিক্রি

11

একরামুল হত্যা: সাবেক এমপি বদি ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ ট

12

উখিয়া সীমান্তে পরিত্যক্ত ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার করল বিজিবি

13

ফাইনালে মাঠে নামার আগেই মেসির রেকর্ড

14

চাকঢালায় সিএনজিতে বিশেষ কৌশলে লুকানো ২০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার,

15

মায়ানমারে পাচারকালে সিমেন্ট ও ডিজেলসহ আটক ১৮

16

স্পিকারের দায়িত্বে কায়সার কামাল

17

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ধানের শীষের বিকল্প নেই: আলীকদমে জাবেদ র

18

২ মামলায় জামিন পেলেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস

19

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংঘর্ষ, মা-ছেলে গুলিব

20