. .
সায়মুন ডেস্ক
প্রকাশ : Jul 23, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

পেকুয়ায় অবৈধ বাঁধ অপসারণ: স্বস্তিতে ১০ হাজার মানুষ

সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা, ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়া এভাবেই বছরের পর বছর কেটেছে কক্সবাজারের পেকুয়ার মগনামা ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষের। অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দেওয়া অবৈধ বাঁধে দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল ঐতিহাসিক রঙিনখালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ। এবার সেই বাঁধ উচ্ছেদে অভিযান শুরু হয়েছে। এতে দীর্ঘ ১৫ বছর পর খালটি দখলমুক্ত হওয়ার পাশাপাশি অন্তত ১০ হাজার মানুষের দুর্ভোগ কমবে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) খালটির স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনতে টানা তৃতীয় দিনের মতো উচ্ছেদ অভিযান চালায় মগনামা ইউনিয়ন পরিষদ। এদিন ইউনিয়নের কাজির মার্কেট এলাকায় খালের ওপর নির্মিত একটি বড় অবৈধ বাঁধ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। বাঁধ অপসারণের পর খালে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

অভিযানস্থলে স্থানীয় গৃহিণী ফাতেমা বেগম (৪২) বলেন, ‘এই বাঁধের কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই আমাদের ঘরবাড়ি ও ফসল ডুবে যেত। এমনকি কেউ মারা গেলে দাফনের জন্য শুকনো মাটি পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ত। খালের পানি চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় এবার আমাদের দুর্ভোগ কমবে।’

স্থানীয় কৃষক শফিউল আলম (৫৫) বলেন, ‘খালটি দখলমুক্ত হলে সাধারণ মানুষ আবার এখানে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন। শুধু বাঁধ কেটে দিলে হবে না, সরকারি জমিও পুরোপুরি উদ্ধার করে রঙিনখালটি পুনঃখনন করতে হবে। তাহলে ভবিষ্যতে কেউ আবার খাল দখল করার সুযোগ পাবে না।’

স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে মগনামা ইউনিয়নের কাজির মার্কেট ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইউনুস চৌধুরী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিটিশ আমলে খনন করা রঙিনখালটি একসময় শুদ্ধখালী, এবাদুল্লাপাড়া, মৌলভীদিয়া, কালারপাড়া, বেদারবিলপাড়া ও কুদাইল্লাদিয়া এলাকার পানি নিষ্কাশনের অন্যতম প্রধান জলধারা ছিল। কিন্তু গত দেড় দশকে খালের বিভিন্ন অংশে বাঁধ দিয়ে মাছের ঘের ও খামার তৈরি করা হয়। এতে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা দিত। পানিতে তলিয়ে যেত ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কবরস্থান।

মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইউনুস চৌধুরী বলেন, জনস্বার্থে কোনো দখলদারকে ছাড় না দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। রঙিনখাল পুরোপুরি দখলমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে। তিনি জানান, খালের ৫৮টি অবৈধ বাঁধ ও স্লুইসগেটে বসানো জাল অপসারণের লক্ষ্য নিয়ে অভিযান শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে ১৩টি বাঁধ অপসারণ করা হয়েছে।

তবে খালটি পুরোপুরি দখলমুক্ত করে পুনঃখনন করা হবে কি না এবং উচ্ছেদ করা বাঁধগুলোর জায়গায় ভবিষ্যতে আবার দখল ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এখন সেটিই স্থানীয়দের প্রধান প্রত্যাশা।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

1

হলফনামায় নুরের পেশা ব্যবসা, বার্ষিক আয় ২০ লাখ টাকা

2

রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প থেকে বহির্গমন সম্পূর্ণ স্থগিতের নির্দেশ

3

বাড়ির দোতলায়ও পানি, ভাই–বোনের খোঁজ পাচ্ছেন না গায়িকা পুতুল

4

পোস্টাল ব্যালটের নকশায় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত ইসির

5

শক্তিশালী রুশ টিইউ-৯৫ বোমারু বিমান ধ্বংস করল ইউক্রেন

6

কক্সবাজার-০২: মহেশখালী-কুতুবদিয়ায় ভোটার কতো,ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ

7

র‍্যাঙ্কিংয়ে সবার নিচে বিপিএল

8

সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় নারী-শিশুসহ ২৭৩ জন আটক

9

কক্সবাজারের ডিককুলে যৌথবাহিনীর অভিযান: অস্ত্রসহ সন্ত্রাসী আট

10

টেকনাফ সীমান্তে মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা জান্তা বাহিনীর ৩ সদ

11

পেকুয়ায় ঝুলন্ত যুবকের মরদেহ উদ্ধার

12

এটা স্কুল নয়, শাস্তিও নয়—বললেন ভারতের প্রধান নির্বাচক

13

ভারতের সঙ্গে কথা হবে চোখে চোখ রেখে

14

অতীতের রাষ্ট্রপরিচালকেরা দুর্নীতি করে আঙুল ফুলে বটগাছ হয়েছেন

15

তনু হত্যা: ১০ বছর পর ৩ জনের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ

16

কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত

17

যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকে ঢুকলে দেখা যাচ্ছে নতুন বার্তা

18

জনগণ ঘৃণাভরে আওয়ামী লীগকে প্রত্যাখ্যান করেছে: পেকুয়ায় ইশরাক

19

বরিশালে এক নবজাতককে ৩ দিন ধরে পাওয়া যাচ্ছে না, মায়ের বিরুদ্ধ

20