. .
চকরিয়া প্রতিনিধি
কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরশহরের বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা জমে থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দা ও পথচারীরা। নির্দিষ্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকায় সড়ক ও ফুটপাতের পাশে গড়ে উঠেছে ময়লার স্তূপ। পচা আবর্জনা থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। ফলে অনেককে নাক-মুখ চেপে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিয়মিত ময়লা সংগ্রহ ও অপসারণ না করায় পৌরশহরের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপরও ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, চকরিয়া বালিকা বিদ্যালয়ের রাস্তার মাথা, বাঁশঘাটা সড়কের মাথা, চকরিয়া সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের রাস্তার মাথা ও গেটের পাশ, বায়তুশ শরফ সড়ক, সবুজবাগ ও ফুলতলাসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কের পাশে ময়লার স্তূপ পড়ে আছে। কোথাও কোথাও ফুটপাতেও আবর্জনা জমে থাকায় পথচারীদের সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, এসব জায়গা কোনো নির্ধারিত বর্জ্য ফেলার স্থান নয়। এরপরও বাসাবাড়ি ও দোকানের ময়লা সেখানে ফেলা হচ্ছে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় এসব বর্জ্য পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলে তাঁদের অভিযোগ।
বায়তুশ শরফ সড়কের বাসিন্দা নুরুল আলম বলেন, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ, শিক্ষার্থী ও মুসল্লি যাতায়াত করেন। রাস্তার পাশে একটি বাড়ির গেটের কাছে দীর্ঘদিন ধরে আশপাশের বাসাবাড়ির ময়লা ফেলা হচ্ছে। দুর্গন্ধের কারণে পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, ময়লার স্তূপকে কেন্দ্র করে এলাকায় কুকুরের উপদ্রব বেড়েছে। পথচারীদের তাড়া করা এবং কুকুরের কামড়ের ঘটনাও ঘটছে বলে তাঁরা জানান।
পৌরবাসীর দাবি, নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে বাসাবাড়ি ও দোকান থেকে ময়লা সংগ্রহ করতে হবে। একই সঙ্গে সড়ক ও ফুটপাতের পাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ময়লার স্তূপ দ্রুত অপসারণ এবং ফুটপাত দখল করে বসা ভাসমান দোকান উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
তবে পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, ময়লা অপসারণের জন্য থাকা দুটি গাড়িই কিছুদিন ধরে নষ্ট হয়ে আছে। এ কারণে ময়লা অপসারণে সমস্যা তৈরি হয়েছে।
চকরিয়া পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, পৌরসভার দুটি ময়লার গাড়ি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বর্জ্য অপসারণে সমস্যা হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব বিকল্প ব্যবস্থায় ময়লা-আবর্জনা সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, দ্রুত ময়লার স্তূপ অপসারণের পাশাপাশি নিয়মিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু হলে পৌরশহরের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি অনেকটাই কমবে।
মন্তব্য করুন