. .
সায়মুন ডেস্ক
প্রকাশ : Aug 3, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১৪ মাসে ১৬৬ জন গ্রেপ্তার

বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় নেওয়ার প্রায় নয় বছর হতে চলেছে। ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসার পর উখিয়া ও টেকনাফে গড়ে ওঠে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী শিবির। বর্তমানে এই দুই উপজেলায় প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছেন।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ২০২০ সাল থেকে পুলিশের বিশেষায়িত তিনটি ইউনিট কাজ করছে। ৮ ও ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) উখিয়ার ক্যাম্পগুলোতে এবং ১৬ এপিবিএন টেকনাফে দায়িত্ব পালন করছে।

৮ এপিবিএনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গত ১৪ মাসে বিভিন্ন মামলায় ১৬৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, আগ্নেয়াস্ত্র ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে অপহৃত ১৩ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকেও উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

৮ এপিবিএনের অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত) রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ এসব তথ্য জানান।

ইউনিটটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৪ মে থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ৭১টি মামলায় এসব আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে হত্যা মামলার আসামি ২২ জন, অস্ত্র মামলায় ৮ জন, অপহরণ মামলায় ১২ জন, মাদক মামলায় ৪৩ জন, ধর্ষণ মামলায় ২ জন এবং চুরি মামলায় ৫ জন রয়েছেন। এ ছাড়া অন্যান্য মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিও রয়েছেন।

এই সময়ে ২ লাখ ৪ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি সাবমেশিনগান (এসএমজি), একটি পিস্তল, একটি রিভলভার, সাতটি ওয়ান শুটারগান, দুটি একনলা বন্দুক, ৩০ রাউন্ড গুলি, ২৩টি গুলির খোসা ও তিনটি কার্তুজসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ২ কেজি গাঁজা, ২৪০ গ্রাম ইয়াবার গুঁড়া, ১৩ লিটার দেশীয় মদ, একটি ওয়াকিটকি সেট এবং বিকাশ প্রতারণার ৩০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। মাদক বিক্রি ও অন্যান্য উৎস থেকে পাওয়া ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০ টাকাও জব্দ করা হয়েছে। চুরি বা হারিয়ে যাওয়া ৩৭টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

এপিবিএনের কর্মকর্তারা জানান, শুধু অভিযান পরিচালনাই নয়, ক্যাম্পে গ্রুপভিত্তিক সংঘর্ষ ও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ, অস্ত্রের মহড়া প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ রোধ, সরাসরি ও অনলাইন জুয়া বন্ধ এবং পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ইউনিটের সদস্যদের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নে নতুন সেন্ট্রি পোস্ট ও শেড নির্মাণসহ অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সন্ত্রাস দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে হত্যা, অস্ত্র, অপহরণ ও মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে অপহৃত ব্যক্তিদেরও উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রামুতে ডাম্পারের ধাক্কা দুই কন্যাশিশুর মৃত্যু

1

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জেলার একমাত্র বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত বীর

2

সেমিকন্ডাক্টর খাতের বিকাশে টাস্কফোর্স গঠন, সদস্য ১৩ জন

3

রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প থেকে বহির্গমন সম্পূর্ণ স্থগিতের নির্দেশ

4

ইরানে বাড়ছে হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়ে

5

জাতিসংঘ মহাসচিব হিসেবে ফিফা সভাপতিকে চান ট্রাম্প

6

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন কাল, উৎসবের আমেজ আদাল

7

রানওয়েতে প্লেন ও ট্রাকের সংঘর্ষে দুই পাইলট নিহত

8

দেশ গড়তে হলে সবাইকে ধৈর্য ধরে কাজ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

9

১২ মে সংরক্ষিত নারী আসনে ভোট, তফসিল ৮ এপ্রিল

10

দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয়: মির্জা ফখরু

11

মুক্তিযুদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ ছিল না: ভারপ্রাপ্ত রাষ্

12

সৌদি আরবে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হা

13

রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র বৈধ

14

মহেশখালীতে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের আগুনে পুড়ে গেছে ৪ বসতবাড়ি

15

শহরের হাজিপাড়ায় ৯০ হাজার ইয়াবা ও ৩৫ লক্ষাধিক টাকাসহ আটক ৩

16

টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজারে বন্যার শঙ্কা, পাহাড়ধস এড়াতে নিরাপদ

17

হ্নীলা সীমান্তে ১৪ লাখ ইয়াবাসহ দুই কারবারি আটক

18

ছুটির দিনে পাহাড়ের টানে আলীকদমে পর্যটকের ঢল, মুখর প্রকৃতির র

19

ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন, ভেন্টিলেশনে রেখে ব

20